৫ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে শিগগির বিজ্ঞপ্তি

বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। পুরনো ৩৭ হাজার ৬৭০টির মধ্যে ৭ হাজার ৯৫২ স্কুলে আর জাতীয়করণকৃত ৮ হাজার ২৫৫টি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬৩ হাজার ৮৬৩টি সরকারি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলের সিনিয়র শিক্ষকদের একজন প্রধান শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায়, শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষার বিঘ্ন ঘটছে। একইসঙ্গে শিক্ষকদের দাফতরিক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় সাত বছর পর প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ার পর প্রথমবারের সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। এদিকে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে বিসিএস উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডার পদে সুপারিশকৃত নয় তাদের নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। এটা না করলে ডাক্তার কিংবা পুলিশের মতো নিয়োগ ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেয়ার সুপারিশ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে আছে। এর ওপর প্রতিদিনই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা ও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদগুলো দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। এখন পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে শূন্য পদে ৫ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। পিএসসির মাধ্যমে ৩৫ শতাংশ নিয়োগ দেয়া হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতি দিয়ে নিয়োগ দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের মধ্য থেকে পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে পূরণ করা হয়। এই পদে দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় একাডেমিক সমস্যার পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের মধ্যেও পদোন্নতি নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে। সহকারী শিক্ষক হিসেবে সাত বছরের অভিজ্ঞতা, গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি এবং সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন অথবা ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন সম্পন্ন করা থাকলে প্রধান শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করা যায়।

জানা গেছে, দেশের সরকারি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ২০০৯ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। একজন শিক্ষকের দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে এই নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ই এ পদে নিয়োগ দিত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার (যদিও শেষ পর্যন্ত তাদের নন-গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেয়া হয়েছে) পদমর্যাদায় উন্নীত করার ঘোষণা দেয়ার পর এই পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া আর মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকেনি। এরপরও নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করার স্বার্থে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা চেয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ তা উপস্থাপন করতে বলা হয়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। তারা প্রধান শিক্ষক পদে নতুন নিয়োগ এবং পদোন্নতির বিষয়টি পিএসসির মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা বলেছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সভাপতি মুহা. আ. আউয়াল তালুকদার বলেন, প্রধান শিক্ষকদের মর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণী করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা গেজেটেড হবে না নন-গেজেটেড হবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট আদেশ বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা তাদের মর্যাদার প্রশ্নটিকে বড় করেই দেখছেন। এরপর প্রধান শিক্ষকদের নিয়োগের বিষয়টি ফয়সালা হোক। পিএসসির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলে স্কুলগুলোতে মানসম্পন্ন শিক্ষক পাওয়া যাবে। নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রাথমিক স্তর হচ্ছে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। তাই পিএসসির মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের পক্ষে তিনি মত দেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। বিধি মোতাবেক পিএসসির মাধ্যমে শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হবে।

[x]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *