সেরা স্কুল হওয়ার গল্প

২০১২ সালে এসএসসিতে ভালো ফলাফলের জন্য ঢাকা বোর্ডের দ্বিতীয় সেরা হয়েছিল আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর পর থেকে মনের মধ্যে সুপ্ত বাসনা ছিল প্রথম হওয়ার। সেই থেকে সব শিক্ষকদের নিয়ে বসা, কীভাবে ভালো করা যায়। নানা পরিকল্পনা। সবাইকে বললাম আমরা কি ঢাকার নামি-দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে প্রথম হতে পারব না? সবাই সায় দিল, কথা দিল প্রথম হওয়ার।’

ddddd

সেই সুপ্ত বাসনা পূরণ হওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানালেন ডেমরার সামছুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমান মোল্লা। ঢাকা বোর্ডে এবার সেরা হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। শিল্পাঞ্চল এলাকার এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ভালো ফলাফল দিয়ে এবার সবার নজরে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এখানে এবার মোট ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। শতভাগই পাস করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৪০ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ৪১০ জন ছাত্র এবং ৩৬৯ জন ছাত্রী। এবারে এই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান থেকে ৪১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৫; ব্যবসায় প্রশাসন থেকে ৩০১ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৩ জন। এ ছাড়া মানবিকের ৬১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ জন।
কীভাবে ঢাকা বোর্ডের এত এত ভালো নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে সফল হলেন সেই গল্প বলছিলেন অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়। শিক্ষার্থীরা কোথাও প্রাইভেট পড়তে পারে না। সব দায়িত্ব নেয় এই প্রতিষ্ঠান। প্রতি ১৫ জন শিক্ষার্থীদের জন্য একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের দুর্বলতা খুঁজে বের করে শ্রেণিকক্ষে বা বাসায় গিয়ে পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নের পর অভিভাবকদের দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা দূর করার জন্য বিশেষ মনোযোগ দেন শিক্ষকেরা। এভাবে দশম শ্রেণিতে ওঠার পর মডেল টেস্ট বা দুর্বলতা নিয়ে কাজ করেন শিক্ষকেরা। শিক্ষার্থীদের সফলতাকে একটি দলগত ফলাফল বললেন অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা আর শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এই ফল এনে দিয়েছে। সবার সততা, নিষ্ঠা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে এটা সম্ভব হয়েছে। তাই বলব এটা দলগত সফলতা।’ তিনি জানান, এখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক ভালো। শিক্ষার্থীদের ছুটি, উপস্থিতি, অনুপস্থিতি এমনকি অন্যান্য দরকারি তথ্য অভিভাবকদের মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতির জন্য বাবা-মায়েরা অনেক সাহায্য করেন। সফলতার এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম হয়েছি। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’ এ জন্য সবার সহযোগিতা চাইলেন তিনি।

[x]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *