সিভি বা বায়োডাটা কত প্রকার,সিভিতে কি কি থাকবে ও সিভি লেখার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট ফরমেন্ট আকারে দেখানো হল।

চাকরির জন্য অনেকেই আবেদন করেন। কিন্তু অনেকেই সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক পান না। এমনও আছেন অনেকবার অনেক প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দিয়েছেন কিন্তু সাক্ষাৎকারের ডাক পাননি। অনেক কারণেই এমন ঘটতে পারে। আপনি যে চাকরি চাচ্ছেন, সিভি হয়তো তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; অথবা সিভিতে আপনার তথ্যাদি উপস্থাপনে কোথাও ত্রুটি রয়ে গেছে কিংবা সিভিতে সব ধরনের তথ্যই উল্লেখ করেছেন কিন্তু উপস্থাপন কৌশলে কোথাও ভুল হয়েছে।তাই নিঃসন্দেহে বলতে চাই, সিভি বানানোটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

আমাদের দেশে বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থী ব্যক্তিগত পরিচয়টাই সিভিতে উপস্থাপন করেন। অনেকেই মনে করেন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিচয় এবং কী কী শিক্ষাগত সনদ অর্জন করেছেন সিভিতে সেগুলো উপস্থাপন করাই যথেষ্ট। নিজের গুণ এবং দক্ষতা তারা উপস্থাপন করেন না বা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না। অথচ আধুনিক নিয়োগকর্তারা প্রার্থীর প্রায়োগিক গুণ ও দক্ষতাকেই গুরুত্ব দেন। নিয়োগকর্তা জানতে চান প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সাফল্য সম্পর্কে। সুতরাং বর্তমান সময়ের বায়োডাটা বা সিভিতে এর প্রতিটি বিষয়ই উপস্থাপন জরুরি।

 সিভি বা বায়োডাটা  কত প্রকার:

প্রকৃতপক্ষে সিভি তৈরির ফরমেট ৩টি : ক্রনোলজিক্যাল, ফাংশনাল এবং কম্বাইন্ড।

ক্রনোলজিক্যাল সিভি : ক্রনোলজিক্যাল ফরমেট সবচেয়ে প্রচলিত সিভি ফরমেট। চাকরির পদবি, চাকরির স্থান এবং চাকরির কার্যকালকে হেডিং হিসেবে এতে হাইলাইট করা হয়। ক্রনোলজিক্যাল ফরমেট তখনই উপযোগী হবে যখন আপনি একই ধরনের পেশায় বহুদিন কর্মরত ছিলেন। এবং আপনার কাজের ধারা হল ক্রমোন্নতি। এই ফরমেটে সর্বশেষ পেশাগত অবস্থান, প্রতিষ্ঠান, দায়িত্ব ও দায়িত্বকাল অভিজ্ঞতার অংশে প্রথমে চলে আসে। নিয়োগদাতারা এ ধরনের ক্রনোলজি পছন্দ করেন। কারণ তারা প্রার্থীর সর্বশেষ পেশাগত অবস্থা পলকেই জানতে পারেন এ ধরনের সিভি থেকে।

ফাংশনাল সিভি : এ ধরনের সিভিতে দক্ষতাভিত্তিক হেডিং ব্যবহৃত হয়। যে ক্ষেত্রে আপনি সর্বোত্তম দক্ষতা এবং সাফল্য দেখিয়েছেন তা আগে আসে। ফলে তা সময়ানুক্রমিক হয় না। এ ফরমেটে আপনার অর্জনগুলোর তালিকা থেকে আলাদা একটা সংক্ষিপ্ত অংশে কর্মধারাক্রম (work history) সতর্কভাবে উল্লেখ করতে হবে। ফাংশনাল ফরমেট তখনই উপযোগী হবে যখন আপনি কেরিয়ার পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন বা গ্যাপ দিয়ে পুনরায় জব মার্কেটে ঢুকতে যাচ্ছেন।

কম্বাইন্ড সিভি : ক্রনোলজিক্যাল এবং ফাংশনাল সিভির সমন্বিত রূপই হল কম্বাইন্ড সিভি। কম্বাইন্ড ফরমেটে সিভি দুভাবে তৈরি করা যায়। প্রথমে দক্ষতা ও সফলতার বিবরণ দিয়ে তারপর অভিজ্ঞতার ক্রনোলজিক্যাল বিবরণ দিতে পারেন। অথবা ক্রনোলজিক্যাল ফরমেটে অভিজ্ঞতা সাজিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কী কাজ করেছেন তা উল্লেখ করতে পারেন। কম্বাইন্ড ফরমেট উপযোগী হবে যখন আপনার অতীত পেশাগত ইতিহাস সমৃদ্ধ থাকবে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ অভিজ্ঞতার ফলে আপনি ভালো দক্ষতা অর্জন করেছেন। এই দক্ষতাকেই আপনি কাঙ্খিত চাকরি পাওয়ার মূল চাবিকাঠি ভাবছেন।

সিভিতে কী কী থাকবে :

সিভির প্রথমেই থাকবে হেডিং। এ অংশে আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল এড্রেস, এমনকি ওয়েব এড্রেস থাকলে সেটিও উল্লেখ করুন। সিভির শুরুতে এ অংশটুকু পৃষ্ঠার ওপরের মধ্য অংশে বা ডান কোনায় লিখতে হবে। এরপর জব অবজেক্টিভ। কোন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে আপনি সক্ষম এবং সিভির যাবতীয় তথ্য কোন দৃষ্টিকোণ থেকে পড়তে হবে সেটা জব অবজেক্টভ নিয়োগ দাতাকে বলে দেবে। সে কারণে জব অবজেক্টিভ হবে সংক্ষিপ্ত। এরপর অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ অংশ। যে পেশা ও পদের নাম আপনি জব অবজেক্টিভ অংশে উল্লেখ করেছেন সে পেশার জন্য কেন আপনি আদর্শ প্রার্থী এখানে সে কথাই লেখা থাকবে। এটি আপনার যোগ্যতার সারসংক্ষেপ অংশ। এখানে আপনার অভিজ্ঞতা, পদবি, আপনার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন, বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা, পার্সনাল ভেল্যুজ, ওয়ার্ক এথিকস, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং যা আপনার কাঙ্খিত পেশার অনুকূলে বিবেচিত হয় লিখুন। এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা। এ অংশটিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ইতিহাস শিরোনামেও দেওয়া যায়। অনেক সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশটি সিভির শুরুতে Objective বা সামারি অংশের নিচেও উপস্থাপন করা হয়। এটা তখনই করবে যখন আপনি নতুন গ্রাজুয়েট। অথবা আপনার পেশা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো প্রশিক্ষণ বা ডিগ্রি থাকে। আবার অনেক সময় দরখাস্তের সঙ্গে একাডেমিক তথ্যাদিসহ সিভি চাওয়া হয়। তখনও আপনি এটি করতে পারেন। সিভিতে ব্যক্তিগত কিছু তথ্যের পর সবশেষে আপনার সম্পর্কে ভালো বলবে এমন ৩ থেকে ৫ জন ব্যক্তির রেফারেন্স সংগ্রহ করে সিভিতে সংযুক্ত করুন। যার রেফারেন্স আপনি ব্যবহার করতে চাচ্ছেন আগে থেকেই তার কাছ থেকে অনুমতি নিন। তালিকায় প্রত্যেকের ক্রমিক নম্বর, নাম ও পদবি, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল অ্যাড্রেস লিখুন। তবে চাকরিদাতা যদি রেফারেন্স না চায় সে ক্ষেত্রে সিভিতে রেফারেন্স উল্লেখ না করাই ভালো।

 সিভি লেখার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:

১. সিভি লিখতে এবং প্রিন্ট করতে সবসময় এ ফোর সাইজ ব্যবহার করুন

২. এখন চাকরি ক্ষেত্রে সবাই ইংরেজিতেই সিভি লেখে। সিভিতে যেন কোনো বানান ভুল না থাকে সেদিকে খুব ভালো করে খেয়াল করুন। যোগ্যতা থাকলেও বানান ভুলের কারণে হয়ত আর চাকরি থেকে ডাক নাও পেতে পারেন। সুতরাং সিভি লেখার পর চূড়ান্ত প্রিন্ট নেওয়ার আগে বেশ কয়েকবার প্রুফ দেখে নিন।

৩. সিভিতে কোনো প্যারাগ্রাফ ৬ লাইন এর বেশি লিখবেন না।

৪. টাইপ করার ক্ষেত্রে এমন ফন্ট ব্যবহার করুন যেটি পড়তে সহজ এবং স্ট্যান্ডার্ড লাগে।

৫. গুরুত্বপূর্ণ কিছু যদি হাইলাইট করতে চান তবে বোল্ড করুন এবং আইটালিক ব্যবহার করুন।

৬. এমনভাবে সিভি তৈরি করবেন যাতে এর দৈর্ঘ্য ২ পৃষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে কারণ সবাই খুব ব্যস্ত। এইচ আর ম্যানেজার এর এত সময় নেই যে আপনার ৫ পৃষ্ঠার সিভি উনি মনোযোগ দিয়ে পরবেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো হাইলাইট করে কম কথায় স্মার্ট ভাবে কাজ সারুন।

৭. যদি ফ্রেশ গ্রাজুয়েট হন তবে এক পৃষ্ঠা এর মধ্যে সব লিখুন আর যদি পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে তবে ২ পৃষ্ঠা, তবে এর বেশি নয়।

৮. হেডিং এমনভাবে বোল্ড করুন যাতে বাকি লেখার সাথে সামঞ্জস্য থাকে।

৯. সব শেষে রেফারেন্স যুক্ত করুন। আপনার সমন্ধে ভালো বলবে এমন দুই তিনজনের নাম দিন যারা আপনাকে চাকরি সুত্রে বা পড়ালেখা সূত্রে চেনে। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা আপনার অফিস এর বস হতে পারে। তাদের ফোন নম্বর ও ইমেইল এড্রেস ব্যবহার করুন তাদের অনুমতি নিয়ে।

১০. এবার আপনার সাক্ষর দিন সিভি তে|

নিচে ৩টি ফরমেট আকারে দেখে নিন

CV-UPDAT normal

md jony new cv with photo

Curriculum Vitae

 

 

[x]
Comments
  1. 11 months ago

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *