সফলদের ৯টি অনন্য অভ্যাস

সাফল্যের সূত্র কি? এমন প্রশ্ন তাকেই করা হয় যে কিনা সফল। আপনি চান আপনাকে কেউ এমন প্রশ্ন করুক? তাহলে আগামী ক’মিনিট স্ক্রলিং করুন এই পাতায়!
সাফল্যের সূত্র ব্যক্তি বিশেষে বদলে যায়, কিন্তু সাফল্যের জন্য পথচলা, সংগ্রাম, লেগে থাকা, অধ্যাবসায় ও নিয়মানুবর্তীতা দুনিয়ার সব কোণে একই এবং অভিন্ন। বিখ্যাতদের জীবনী ঘাটলে সফলদের জীবনে ৯টি ভিন্নমাত্রিক অভ্যাসের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। এই অভ্যাস তারা অবচেতন মনেই নিজের মধ্যে ধারণ করে এগিয়ে যান সাফল্যের দিকে।
৯টি অনন্য অভ্যাসের কথা জেনে নিজে চেষ্টা করুন না তাদের মত হতে। চেষ্টা করতে দোষ কোথায়? সাফল্য তো আসলে লাইফস্টাইল।

career 1

 

১. সাহস
অ্যারিস্টটলের অমর বাণী, ‘সাহস হচ্ছে মানুষের প্রথম গুণ যা অন্য সব অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে।’ এই কথার পরিচয় পাবেন হালের জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনে- “অসম্ভবকেই সম্ভব করা অনন্তর কাজ”।
সাধারণ মানুষ তাদেরকেই অনুসরণ করে যাদের সাহস আছে। সবার সাহস থাকে না। যাদের সাহস আছে, তারাই ঝুঁকি নিতে পারেন। কঠিন মুহুর্তে সাহস নিয়ে দারুণসব সিদ্ধান্ত আর চিন্তা যারা করতে পারেন তারাই সাফল্যের দিকে ছুটে যান। বিল গেটস আর তার বন্ধু সাহস দেখিয়ে ১৯৭৫ সালে স্কুল ছেড়ে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা না গড়লে পৃথিবী উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম বা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের দেখা পেত? ফেসবুক চালু করার পরে মার্ক জাকারবার্গের নামে মেধাস্বত্ব আইনে মামলা করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। ২০০৮ সালে সেই মামলায় জাকারবার্গের জরিমানা হলেও তিনি কিন্তু সাহসের সঙ্গে চালিয়ে নিয়ে গেছেন ফেসবুক ডট কম।

২. কার্যকর যোগাযোগ
যোগাযোগ নিয়ে যারা পড়াশোনা করেন তাদের জন্য জোসেফ প্রিষ্টলির বাণী পাথেয়। জোসেফের ভাষ্য, ‘আমরা যত ভাষায় কথা বলে কিছু প্রকাশ করতে চাই, আমরা তত কম বলতে পারি।’ এই ভাষ্যের সহজ রুপ হল-বেশি কথায় কাজ কম হয়।
সফল নেতা হতে চাইলে স্বার্থক যোগাযোগস্থাপনকারী হতে হয়। আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিদিন এই দক্ষতা আপনাকে অর্জন করতে হবে। এমন কোনো বিখ্যাত মানুষের পরিচয় আপনি জানেন যার কথা আপনি বুঝতে পারেন না? অথচ খেয়াল করে দেখবেন, আপনার অফিসের বস বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের অনেক কথা আপনি বুঝতে পারেন না।
খেয়াল করে দেখবেন, বিখ্যাতরা বা সফল নেতারা তাদের ভাষণে কম বাক্য ব্যয় করেন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত গেটিসবার্গের ভাষণ ছিল মাত্র ১০টি বাক্য নিয়ে। আড্ডায় কম কথা বলা যেমন বোকামি তেমনি অন্যদের কোনো কিছু বলার সময় বেশি কথা বলাও নিবুর্দ্ধিতা বলে ভাবে জার্মানরা।

৩. বিনয়
স্বার্থক নেতা তিনিই যিন কাজের খারাপ দায় নিজের উপর নেন, কিন্তু কাজের ভালো দিকের দায় অন্যদের দেন। বলেছেন জন ম্যাক্সওয়েল।
স্বার্থক নেতারা বিনয়ী হন। তারা কাজের ক্ষেত্রে অন্যদের যোগ্যতা অনুসারে প্রশংসা ও উৎসাহ দিতে পারেন। আপনি যেখানে সারাদিন নিজে কতটুকু কাজ করেছেন তা নিয়ে ভাবেন সেখানে সফল নেতারা সবাইকে নিয়ে কতটুকু ভাল কাজ করা যায় তা নিয়ে ভাবেন।

৪. নম্রতা
সফলরা নম্র হন। সাধারণ পরিস্থিতি আর যেকোন উৎকণ্ঠায় তারা ঠান্ডা মাথায় অন্যদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন।

৫. ব্যক্তি সচেতনতা
ল্যাটিন প্রবাদে বলে, যে মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সে অন্যদের কিভাবে শাসন করবে? সাধারণ মানুষ সব সময় অন্যরা কি করে না করে তা নিয়ে ভেবে আর হতাশায় দিন কাটিয়ে দেয়। কিন্তু যারা সফল নেতা তারা ব্যক্তি জীবনে নিজের সব কথা আর কাজ সম্পর্কে সচেতন থাকেন।
ব্যক্তি সচেতনতা সাধারণ মানুষের বুদ্ধির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সফলরা নিজের  ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সব সময় সচেতন থাকেন।

৬. ভালো আচরণ
আপনি যেভাবে মানুষকে দেখবেন, সাধারণ মানুষও আপনাকে সেভাবেই দেখবে। আপনি যেভাবে মানুষের সঙ্গে আচরণ করবেন, সাধারণ মানুষও আপনার সঙ্গে সেই আচরণ করবে। বলেছেন জন উলফগ্যাং ভন গ্যাটে।

৮. আগ্রহ
আপনার যদি কোনো কাজের প্রতি ভালো লাগা থাকে আর আপনি যদি তার প্রতি খুব বেশি আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে বড় কোনো পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই কাজ জয় করার দরকার হবে না।
-মার্ক জাকাররবার্গ।

৯. যা বিশ্বাস করেন তাই করুন
আপনি বিশ্বাস করেন আপনি কিছু করতে পারেন, তাহলে আপনি কিছু করার চেষ্টা করলেই আপনি কিছু করতে পারবেন।
-জাপানী প্রবাদ।

সুত্রঃ-ক্যাম্পাস ২ ক্যারিয়ার অব অন্ট্রাপ্রিনিউর ডট কম

[x]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *