শিক্ষক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি

শিক্ষক পদে নিয়োগে দুর্নীতির কারণে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিুগামী হচ্ছে। এ অবস্থায় বিসিএসের আদলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি প্রবর্তনের বিষয়টি অনেকদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে মাস্টার্স শ্রেণী স্তরে শিক্ষক নিয়োগে সরকারিভাবে নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক- এই তিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তৈরি করা মেধা তালিকা থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এ উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। নতুন এ পদ্ধতি প্রবর্তিত হলে একদিকে যেমন নিয়োগ-বাণিজ্য বন্ধ হবে, অন্যদিকে তেমনি যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিসিএসের আদলে নতুন এ পদ্ধতি চালু হলে প্রকৃত মেধাবীরাও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করবে। এতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান বাড়বে। উল্লিখিত নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের স্তরে উন্নীত হবে। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ অনেক কমবে। অনেক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু অর্থের অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে কোনো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের স্তরে উন্নীত হলে কম খরচে নিকটস্থ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের পথ সুগম হবে। সরকারের এ উদ্যোগটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হোক। তবে মনে রাখা দরকার, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেবল শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনলেই শিক্ষা ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে না। উল্লিখিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যা সমাধানেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেয়া না হলে কী সমস্যার সৃষ্টি হয়, তা যুগান্তরে প্রকাশিত এ বিষয়ক ধারাবাহিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি বারবার পত্রিকার শিরোনাম হয়। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেসব খতিয়ে দেখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

[x]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *