মাসুদার স্বপ্ন

masuda bdcareerমেয়েটির চোখে-মুখে রং খেলা করে। কথায় উচ্ছ্বলতা। সেই উচ্ছ্বলতা ছড়িয়ে দুপুরের সোনা রোদ মুখে লেগে আছে। কথা হচ্ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদা আক্তারের সঙ্গে। টানা দুবার আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মেয়েদের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। সব খেলাতেই তিনি সাবলীল। এবারের প্রতিযোগিতাতেও উচ্চলম্ফ ও ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানসহ পেয়েছেন বেশ কটি পদক।
মাসুদা রংপুরের মেয়ে। তাঁর সব কাজের অনুপ্রেরণা বাবা মুসলিম হোসেন আর মা মুঞ্জুমালা বেগম। আর বেগম রোকেয়া তো রয়েছেনই তাঁর চেতনায়। খেলাধুলার বাইরে আবৃত্তিতে আছে তাঁর ব্যাপক আগ্রহ। রবীন্দ্রনাথের কৃষ্ণকলি তাঁর প্রিয় কবিতার অন্যতম।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি ভেতর থেকে একটা টান অনুভব করতেন। সেই থেকে শুরু। মা-বাবার উৎসাহের কমতি নেই। স্কুল, কলেজে সব সময় পুরস্কার পেয়েছেন, থেকেছেন প্রথম সারিতে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনেও মেয়েদের বিভাগে প্রথম তিনি।
মাসুদা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর গৌতম কুমার দাস জানালেন, ‘খেলাধুলা নিয়ে এত আগ্রহ অন্য কোনো মেয়ের ভেতর আমি দেখিনি। সব ইভেন্টেই তার আগ্রহ প্রবল। যেকোনো টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো খুব সহজেই আয়ত্ত করে নিতে পারে।’
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ এখনো সীমিত পর্যায়েই রয়েছে গেছে। এ নিয়ে মাসুদা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েরা খুব বেশি অংশগ্রহণ করে না। তা ছাড়া খেলাধুলায় সেই রকম উপযুক্ত পরিবেশ আছে, তা বলা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল না থাকায় আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক মেয়ের পক্ষে খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।
বর্তমানে মাসুদা টেবিল টেনিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত। টেবিল টেনিসে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে ভালো কিছু করে দেখানোর স্বপ্নপ্রত্যাশী।

সুত্রঃ- প্রথম আলো

[x]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *